শেখ নুরুজ্জামান (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা শরীফে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক, দার্শনিক, সাহিত্যিক ও সুফী-সাধক পীরে কামেল আলহাজ্জ খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (রহ.)-এর ৬২তম বার্ষিক ৩ দিনব্যাপী পবিত্র ওরছ শরীফ আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) বাদ ফজর মিলাদ শরীফ ও আলোচনা শুরু হয়ে সকাল ৯টায় আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে। নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক আলহাজ্জ এ.এফ.এম. এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন নলতা শরীফ শাহী জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম আলহাজ্জ মুফতী মাওলানা গোলাম কিবরিয়া কাদেরী। প্রায় ৩৫ মিনিটব্যাপী মোনাজাতে বিশ্ব মানবতার কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ইহকালীন সুখ-সমৃদ্ধি ও পরকালের মাগফিরাত কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ ক্বারী মো. শামছুর রহমান। মিলাদ ও ফাতেহা পাঠ করেন মৌলানা মো. আব্দুল হাকিম। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক হাফেজ মো. হাফিজুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার এ.এফ.এম. গোলাম সরফুদ্দীনসহ আরও অনেকে।
গজল পরিবেশন করেন মানছুরুর রহমান, ফিরোজ আলম, মাসুম বিল্লাহ, আবতাব হোসেন বাচ্চু ও শাহীন আলম। এছাড়া ভক্তদের পত্র পাঠ ও কেয়াম পরিবেশন করা হয়।
আখেরী মোনাজাতকে কেন্দ্র করে নলতা শরীফ এলাকায় লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির সমাগম ঘটে। ফজরের নামাজের পর থেকেই পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মোনাজাতে অংশ নিয়ে মুসল্লিরা আত্মশুদ্ধি, গুনাহ মাফ এবং সকল বালা-মুসিবত থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন। ‘আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
৩ দিনব্যাপী ওরছ শরীফে আগতদের মাঝে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সবার জন্য তাবারকের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয় এবং কেউ যেন তাবারক ছাড়া না ফেরে, সে বিষয়ে মিশন কর্তৃপক্ষ সতর্ক ছিল। নিরবচ্ছিন্নভাবে খাবার বিতরণ করা হয় এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল শৃঙ্খলা ও সুশৃঙ্খলতা।
মিশনের কর্মকর্তারা জানান, আল্লাহর অশেষ রহমতে এবারের ওরছ শরীফ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
আখেরী মোনাজাত শেষে বেলা ১১টা থেকে নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
No comments:
Post a Comment