প্রতিদিনের চাহিদা ১২ হাজার টন ভারতের পাঁচ হাজার টন ডিজেল আমদানি নিয়ে অতিপ্রচার সোহাগ কুমার বিশ্বাস, চট্টগ্রাম - Amar Desh Protidin 24

নামাজের সময়সূচী

Prayer Schedule Widget
Sunday
17-05-2026
10 : 00 04 AM
রবিবার
০৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Prayer schedule
Fajr
03 : 53
Dhuhr
11 : 58
Asr
04 : 35
Maghrib
06 : 36
Isha
07 : 59
নামাজের নিষিদ্ধ সময়সূচী
সূর্যোদয়
5:16 - 5:30
দুপুর
11:40 - 11:54
সূর্যাস্ত
6:19 - 6:33
Facebook Video Player
Advanced Live Sports Hub
🏏 ADVANCED LIVE SPORTS HUB

11.3.26

প্রতিদিনের চাহিদা ১২ হাজার টন ভারতের পাঁচ হাজার টন ডিজেল আমদানি নিয়ে অতিপ্রচার সোহাগ কুমার বিশ্বাস, চট্টগ্রাম

 


মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নানা শঙ্কা তৈরি হলেও বাংলাদেশের ডিজেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের সম্ভাবনা খুব কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

কারণ, একাধিক দেশ থেকে নিয়মিত ডিজেল আমদানি করছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ভারতের অংশ তুলনামূলকভাবে সামান্য হলেও সম্প্রতি দেশটি থেকে মাত্র পাঁচ হাজার টন ডিজেলের একটি চালান নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে ব্যাপক হুলুস্থুল শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, দেশে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা গড়ে প্রায় ১২ হাজার টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ডিজেল আমদানি হয়েছিল প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে আমদানির প্রবণতা বিবেচনায় বছর শেষে তা ৪৪ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। সে হিসেবে দৈনিক দেশে ডিজেলের চাহিদা ১২ হাজার টনের কাছাকাছি।সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও সে প্রভাব ডিজেলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ওপর পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ, মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও একাধিক উৎস থেকে ডিজেল আমদানি করে বাংলাদেশ। ভারত থেকেও সামান্য পরিমাণ ডিজেল আনা হয়, যা মোট বাৎসরিক চাহিদার ১৪ শতাংশেরও নিচে।

চুক্তি অনুযায়ী সম্প্রতি একটি চালানে পাঁচ হাজার টন ডিজেলের একটি চালান সরবরাহ প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারত। তবে বিষয়টি ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতীয় মিডিয়ায় শুরু হয়েছে ব্যাপক হুলুস্থুল। পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ভারতের বদান্যতায় বড় কোনো সংকট থেকে রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশ!

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল। এর মধ্যে প্রায় ২৪ শতাংশ ব্যবহার হয় কৃষি কাজে। এছাড়া গণপরিবহন, পণ্য পরিবহন এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথের অধিকাংশ নৌযানে প্রধান জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয় ডিজেল। ফলে জ্বালানি খাতে ডিজেলকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর জ্বালানি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এ কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ একাধিক উৎস থেকে ডিজেল আমদানি করে থাকে। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ডিজেল আনা হয়। ভারতও সেই সরবরাহকারী দেশগুলোর একটি মাত্র।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের আগে ভারত থেকে ডিজেল আমদানির পরিমাণ ছিল মোট চাহিদার প্রায় ৮ থেকে ৯ শতাংশ। ১/১১ সরকারের পাতানো নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে নানা অজুহাতে ডিজেল আমদানিতে বাংলাদেশকে ভারতের ওপর নির্ভরশীল করার চেষ্টা করে ভারত।



বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন

বিপিসির সাবেক এক চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত থেকে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারতের এক্সিম ব্যাংকের লাইন অব ক্রেডিট থেকে প্রায় ৩৭৭ কোটি রুপি ঋণ দেওয়া হয়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার সমান।

এ প্রকল্পের আওতায় ভারতের শিলিগুড়ির নুমালিগড় তেল শোধনাগার থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর বিপিসি ডিপো পর্যন্ত ১৩১ দশমিক শূন্য পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সম্পন্ন হয়। পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যৌথভাবে পাইপলাইনটির উদ্বোধন করেন।

তখন পাইপলাইনের সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়। বিপিসির কর্মকর্তাদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয় পাইপলাইনের সুফল নিয়ে ব্যাখ্যা করে বক্তব্য দিতে। অন্য দেশের চেয়ে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি করলে পরিবহন ব্যয় কমবে, সিস্টেম লস কম হবে, তেল চুরির প্রবণতা কমবে- এমন বিভিন্ন ধরনের এজেন্ডা নির্ধারণ করে দেওয়া হয় সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে। তবে এতসব উদ্যোগের পরও ভারত থেকে ডিজেল আমদানির অংশ কখনোই মোট চাহিদার ১৪ শতাংশ অতিক্রম করেনি।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ডিজেল আমদানি হয় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন। এর মধ্যে ভারত থেকে আসে চার লাখ ৪৮ হাজার টন। শতাংশের হিসাবে যা মাত্র ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ মাত্র। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশে প্রায় ২৩ লাখ টন ডিজেল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে ভারত থেকে এসেছে প্রায় তিন লাখ ৩৩ হাজার টন, যা মোট আমদানির প্রায় ১৪ শতাংশ।

বিপিসি জানায়, মৈত্রী পাইপলাইনের চুক্তি অনুযায়ী বছরে প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করার কথা। তবে চাহিদা অনুযায়ী গত দুবছরে কয়েক দফায় পাঁচ থেকে ১০ হাজার টন করে সরবরাহ করেছে ভারত। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার থেকে পাঁচ হাজার টনের একটি চালান পাম্পিং শুরু করেছে ভারত। তবে এ পাইপলাইন প্রকল্পের শুরুতে যেমন এ প্রকল্পের পক্ষে সরকারি মদতে ব্যাপক মিডিয়া ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছিল, এখন আবার নতুন করে সেই ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে।

ডিজেল আমদানির উৎস

২০০৬-০৭ অর্থবছরের আগে বাংলাদেশের বেশিরভাগ ডিজেল আমদানি হতো মধ্যপ্রাচ্য থেকে, বিশেষ করে কুয়েত থেকে সরকারিভাবে জি-টু-জি চুক্তির মাধ্যমে। পরে আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকেও ডিজেল আমদানি শুরু হয়। বর্তমানে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চীন, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি ডিজেল আসছে সিঙ্গাপুর থেকে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে আমদানি করা প্রায় ২৩ লাখ টন ডিজেলের প্রায় ৪১ শতাংশ এসেছে সিঙ্গাপুর থেকে এবং প্রায় ২৪ শতাংশ এসেছে মালয়েশিয়া থেকে। ফলে এ খাতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর নির্ভরতা অনেক কমে গেছে।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৪৪ লাখ টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি আমদানি করা অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে বছরে প্রায় সাত থেকে সাড়ে সাত লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করে। বাকি পুরো চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।

ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মানজারে খোরশেদ আলম বলেন, একাধিক উৎস থেকে আমদানি হওয়ায় ডিজেল সরবরাহে কোনো একক দেশের ওপর নির্ভরতা নেই। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বা হরমুজ প্রণালিতে সমস্যা হলেও বাংলাদেশের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যাঘাতের সম্ভাবনা কম।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সরকারকে বেশি দামে কিনতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়া অথবা অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য সমন্বয়ের মতো পদক্ষেপ নিতে হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, মূলত হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভর এলএনজি, এলপিজি ও ক্রুড অয়েলের সাপ্লাই নির্ভরশীল। তবে সেক্ষেত্রেও বিকল্প আরো দুটি নৌপথ আছে। সেগুলো ব্যবহার করে জ্বালানি আনলে খরচ ও সময় কিছুটা বাড়বে; কিন্তু সাপ্লাই চেইন ঠিক থাকবে।

বিপিসির অপারেশন ও বাণিজ্য বিভাগের জিএম মোরশেদ হোসাইন আজাদ জানান, সম্ভাব্য বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি বিবেচনায় নতুন উৎস থেকেও ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল আমদানির জন্য প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

তিনি জানান, ব্রুনেই ও সৌদি আরব থেকে দুটি দরপত্র পাওয়া গেছে; এখন সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকেও ডিজেল আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এতে আমদানির উৎস আরো বৈচিত্র্যময় হবে।

আপাত দৃষ্টিতে জ্বালানির কোনো সংকট বিপিসি দেখছে না বলেও জানান তিনি। তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের জন্য হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল শিথিল করতে শুরু করেছে ইরান। তাই হরমুজ প্রণালির ওপারে এক লাখ টন ক্রুড নিয়ে যে জাহাজটি আটকা পড়েছে, সেটিও অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করবে বলে আশার কথা জানান তিনি।

No comments: